বাংলাদেশে কি BNP-জামায়াতের জোট সরকার? ভোট নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের

বাংলাদেশে কি BNP-জামায়াতের জোট সরকার? ভোট নিয়েই বিস্ফোরক অভিযোগ হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের

আসন্ন বাংলাদেশ নির্বাচন ঘিরে গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন আদৌ গণতান্ত্রিক নয় এবং ফলাফল আগেই নির্ধারিত। তাঁর আশঙ্কা, ভোটের পর দেশে BNP-জামায়াত জোট সরকার গঠিত হতে পারে, যা ভারতের নিরাপত্তার পক্ষেও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

সোমবার সন্ধ্যায় আমেরিকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতায় আয়োজিত একটি বই আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয় বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন আসলে একটি সাজানো প্রহসন। মানুষ ভোট দিক বা না দিক, ফল বদলাবে না।” তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পরে জামায়াতে ইসলামি পূর্ণ স্বাধীনতা পাবে এবং তার ফলেই বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দেবে।

জয়ের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের পূর্ব সীমান্তে। তিনি বলেন, “পাকিস্তান তখন বাংলাদেশে ইচ্ছেমতো প্রভাব বিস্তার করার সুযোগ পাবে, যা ভারতের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি।”

আইসিসিআরে ‘খোলা হাওয়া’ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ’ শীর্ষক বইয়ের আলোচনা সভায় শেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জয়। হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে লেখা এই বইয়ের আলোচনায় সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ স্বপন দাশগুপ্ত। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সিপিএম নেত্রী সাইরা শাহ হালিম, বিজেপি নেতা পঙ্কজ রায়, কংগ্রেস নেতা রোহন মিত্র-সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

ভোটের ফল নিয়ে নিজের অনুমান তুলে ধরে জয় বলেন, “এই নির্বাচনে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। বিএনপি প্রায় ১৫০টি আসন এবং জামায়াত প্রায় ১২০টি আসন পাবে। তারা একসঙ্গে সরকার গঠন করবে।” তাঁর অভিযোগ, ব্যাপক হারে জাল ব্যালট ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করা হবে, কারণ সাধারণ মানুষের বড় অংশ ভোটকেন্দ্রে যাবেন না।

জয় আরও বলেন, এই নির্বাচন কার্যত একতরফা, কারণ শুধু আওয়ামী লীগ নয়, প্রায় সব প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলকেই কোণঠাসা বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতীয় পার্টির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, দলটির দফতরে হামলা, নেতাদের গ্রেফতার এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে, এমনকি প্রচারের সুযোগও দেওয়া হচ্ছে না।

সাধারণ মানুষকে ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জয় বলেন, “আপনি ভোট দিলে এই প্রহসনকে বৈধতা দেবেন। ভোট না দিলেও ফল বদলাবে না।” তাঁর অভিযোগ, জামায়াত বাংলাদেশকে একটি উগ্র ইসলামিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।

অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জয় বলেন, “বাংলাদেশে আগে জামায়াত-সমর্থিত শাসনে আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তৈইবার মতো সংগঠনের সক্রিয়তা সবাই দেখেছে। এটাই বাস্তবতা, আর ভারতের এ বিষয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।”

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, বিএনপি নেতা তারেক রহমান আমেরিকার চাপে সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গণভোটে সম্মত হয়েছেন। জয়ের মতে, এতে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা দুর্বল হবে এবং বাংলাদেশে স্থিতিশীল সরকার গঠন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

শেষে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে জয় বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ কাকে ভোট দেবে, সেটা তাদের অধিকার। কিন্তু আমাদের তো নির্বাচনে অংশ নিতেই দেওয়া হচ্ছে না। জামায়াতকে আটকানোর এটাই শেষ সুযোগ।”

Category