যৌন অপরাধে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টিনকে ঘিরে তৈরি হওয়া তথাকথিত ‘এপস্টিন ফাইলস’ আবারও আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি এই মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত প্রায় ৩০ লক্ষেরও বেশি পৃষ্ঠার নথির একটি অংশ প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে বিশ্বের বহু প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তির নাম উঠে আসায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
এই নথিগুলিতে প্রযুক্তি দুনিয়ার শীর্ষ ধনকুবের থেকে শুরু করে রাজনীতির পরিচিত মুখদের নাম রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তালিকায় এলন মাস্ক, বিল গেটসের মতো ব্যক্তিত্বদের উল্লেখ ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০০৮ সালে। ফ্লোরিডার পাম বিচে এক নাবালিকার উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে জেফরি এপস্টিনের বিরুদ্ধে। সে সময় তিনি বড় ধরনের শাস্তি এড়িয়ে গেলেও যৌন অপরাধী হিসেবে নথিভুক্ত হন। পরে, ২০১৯ সালে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের দিয়ে যৌন পাচার চক্র চালানোর অভিযোগে ফের গ্রেফতার হন এপস্টিন। তবে বিচার শুরুর আগেই নিউইয়র্কের একটি জেলে তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। সরকারি ভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও এই মৃত্যু ঘিরে আজও বহু প্রশ্ন রয়ে গেছে।
এই দীর্ঘ তদন্ত প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীদের বয়ান, ইমেল, যোগাযোগ সংক্রান্ত নথি এবং এপস্টিনের বিভিন্ন সম্পত্তি থেকে উদ্ধার হওয়া দলিল মিলিয়ে তৈরি হয় বিশাল আকারের ‘এপস্টিন ফাইলস’। সময় সময় এই নথির অংশ বিশেষ প্রকাশ্যে আসছে।
চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আমেরিকায় চাপের মুখে এই ফাইলের একটি অংশ প্রকাশ করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, কোনও সম্পাদনা ছাড়াই নথি প্রকাশের ফলে বহু সংবেদনশীল ছবি ও তথ্য প্রকাশ্যে চলে আসে, যা নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলিও প্রশ্ন তুলেছে।
সাধারণ মানুষের কৌতূহলের মূল কারণ, এই নথিতে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম থাকা। কোথাও কোথাও গুরুতর অভিযোগের ইঙ্গিত থাকলেও আইনি বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে বলছেন নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়। আদালতে দোষ প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত এগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
এই ফাইলস ঘিরে বিল গেটসের নাম নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত অভিযোগের কথা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ালেও গেটসের ঘনিষ্ঠ মহল এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
একইভাবে এলন মাস্কের নামও উঠে এসেছে। দাবি করা হচ্ছে, ২০১২-১৩ সালের মধ্যে এপস্টিনের ক্যারিবিয়ান দ্বীপে যাওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ইমেল আদান-প্রদান হয়েছিল। যদিও মাস্ক জানিয়েছেন, ইমেলগুলোর কিছু অংশ ভুল ব্যাখ্যা করে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা সের্গেই ব্রিন এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামও বিভিন্ন সময় এই ফাইলসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প নিজেকে সব ধরনের অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে দাবি করে আসছেন।
সব মিলিয়ে, ‘এপস্টিন ফাইলস’ এখন কেবল একটি মামলার নথি নয় এটি ক্ষমতা, প্রভাব এবং নৈতিকতার জটিল সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
- Log in to post comments