নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি শুনানিতে ডাকত? জন্মজয়ন্তীতে কেন্দ্র ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি শুনানিতে ডাকত? জন্মজয়ন্তীতে কেন্দ্র ও কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তীর মঞ্চ থেকেই ফের কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “নেতাজি বেঁচে থাকলে তাঁকেও কি শুনানিতে ডাকা হত?”

এসআইআর (Special Intensive Revision) ইস্যুতে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই প্রক্রিয়ার কারণে ভয় ও আতঙ্কে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় ১১০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রতিদিন আতঙ্কে আত্মঘাতী হচ্ছেন তিন-চার জন করে মানুষ। এই পরিস্থিতির জন্য নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে দায় নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। যদিও সরকারি মঞ্চ হওয়ায় সরাসরি বিজেপির নাম উল্লেখ করেননি, তবে বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।

নেতাজির পরিবারের সদস্য চন্দ্রকুমার বসুকে শুনানিতে ডাকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মমতা বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ইতিহাসের প্রতি অসম্মান। তাঁর অভিযোগ, দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করার চেষ্টা চলছে, মনীষীদের অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।

নেতাজির অবদান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সুভাষচন্দ্র বসুই পরিকল্পনা কমিশনের ধারণা দিয়েছিলেন, অথচ সেই প্রতিষ্ঠান তুলে দিয়ে নীতি আয়োগ গঠন করা হয়েছে, যার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি ২৩ জানুয়ারিকে এখনও জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এটা মানবিকতার সঙ্গে দানবিকতার লড়াই।” নেতাজির ‘দিল্লি চলো’ স্লোগানের উল্লেখ করে তিনি সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাকও দেন।

এসআইআরের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাঁরা আজ মানুষকে কষ্ট দিচ্ছেন, তাঁদেরও তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। অমর্ত্য সেনকে নোটিস পাঠানোর ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত জীবনেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।

Category