বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক হিংসার ঘটনা, হত্যা ও গণপিটুনির মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্রিয় হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) হিন্দু ভোটারদের প্রতি বার্তা দিয়েছে যে, তাদের আর কোনও ভয়ের মধ্যে থাকার প্রয়োজন নেই।
শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও আসনে নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “হিন্দু ভাইদের ভয় পেতে হবে না। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নির্ভয়ে ভোট দিন। এটি আপনারা জনগণের অধিকার।” তিনি আরও জানিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং শান্তি পুনরুদ্ধার হবে।
মির্জা আলমগীর উল্লেখ করেন, বিএনপি সবসময় হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছে। দলের সভাপতি তারেক রহমানও তার প্রথম নির্বাচনী সভায় দেশের সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি রাখার বার্তা দিয়েছেন।
বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া সাধারণ নির্বাচনে হিন্দু সংখ্যালঘু ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। এই নির্বাচনে হিন্দু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মোট ৮০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে এবং তিনজন নিজেরা প্রত্যাহার করেছেন।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি সর্বাধিক হিন্দু সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে, ৭০ জন, আর বিএনপি বড় অংশে হিন্দু প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপির প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন—ঈশ্বরচন্দ্র রায় (ঢাকা ৩), ভাইস চেয়ারম্যান নিতাইরায় চৌধুরী (মথুরা ২), কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, সোমনাথ দে এবং দীপেন দেওয়ান।
তাছাড়া, এই নির্বাচনে নজরকাড়া ঘটনা হলো কিছু উগ্র ইসলামী দলও হিন্দু প্রার্থী দিয়েছে। যেমন জামায়াত-ই-ইসলামি খুলনা ১ আসন থেকে হিন্দু প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দীকে মনোনয়ন দিয়েছে। পাশাপাশি, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি মৌলভীবাজার ৪ আসনে হিন্দু প্রার্থী প্রীতম দাসকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দিয়েছে।
এই সব তথ্যই প্রতিফলিত করছে, বাংলাদেশের নির্বাচনে হিন্দু ভোট ব্যাঙ্কের গুরুত্ব দিনে দিনে বাড়ছে, আর বিএনপি এই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সক্রিয়ভাবে কৌশল গ্রহণ করছে।
- Log in to post comments