চরম চাপের মধ্যে পড়েছে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প। সুতো আমদানিতে শুল্কছাড় নীতি বাতিলের দাবিতে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশজুড়ে স্পিনিং ইউনিট বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মিল মালিকেরা। জানুয়ারির মধ্যেই সরকার সিদ্ধান্ত না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিল্পপতিরা।
এই সঙ্কটের সূত্রপাত বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছে পাঠানো একটি চিঠিকে ঘিরে। সেখানে বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থায় সুতো আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শুল্ক সুবিধা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। মিল মালিকদের বক্তব্য, বিনাশুল্কে কম দামে ভারত ও চিন থেকে সুতো ঢুকছে। ফলে গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি দেশীয় সুতো না কিনে বিদেশি সুতোর দিকেই ঝুঁকছে। এর জেরে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলি বিক্রি হারিয়ে গভীর আর্থিক সমস্যায় পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ভারতের কার্পাস সুতো এবং চিনের পলিয়েস্টার সুতোর উপর নির্ভরশীল। এগুলি তুলনামূলকভাবে সস্তা হওয়ার পাশাপাশি মানের দিক থেকেও উন্নত বলে দাবি শিল্পমহলের। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পকে সুবিধা দিতে সরকার সুতো আমদানিতে কর ছাড় দিলেও, তার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশীয় সুতো উৎপাদকদের।
এর উপর আবার নতুন করে মাথাব্যথা বাড়িয়েছে গ্যাস সঙ্কট। গত কয়েক মাসে গ্যাস সরবরাহ অনিয়মিত হয়ে পড়েছে, বেড়েছে দামও। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণে ইতিমধ্যেই প্রায় ২০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্পে। বহু মিলের উৎপাদন ক্ষমতা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে। ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের জন্য বারবার আবেদন জানালেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগ।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (BTMA) জানিয়েছে, সস্তা ভারতীয় সুতোর দাপটে বাজার ভরে যাওয়ায় প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতো গুদামেই পড়ে রয়েছে। ইতিমধ্যেই ৫০টিরও বেশি মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং হাজার হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝায় মিল মালিকদের অবস্থা কার্যত দিশেহারা।
- Log in to post comments