বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে পাকিস্তান? বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতকে চাপে ফেলতে চাইছে পাকিস্তান? বিশ্বকাপ বয়কট নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিয়ে কড়া অবস্থানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। পাকিস্তানের একটি অংশ থেকে প্রকাশ্যে দাবি উঠেছে—এই মুহূর্তটাই ভারতকে চাপে ফেলার সবচেয়ে বড় সুযোগ, তাই প্রয়োজনে পাকিস্তানেরও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত।

এই বিতর্কে সামনে এসেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক রশিদ লতিফ। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) পরামর্শ দিয়েছেন, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপ বয়কট করার কথা বিবেচনা করতে। তাঁর যুক্তি, নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ যখন ভারতে খেলতে যেতে অস্বীকার করেছে, তখন সেই অবস্থানকে সমর্থন করা পাকিস্তানের নৈতিক দায়িত্ব।

একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে লতিফ বলেন, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে, তাহলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচই হবে না, যা গোটা টুর্নামেন্টের আকর্ষণকে বড় ধাক্কা দেবে। তাঁর মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর এটাই সেরা সময়, যদিও এর জন্য সাহসী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

লতিফের দাবি, আইসিসি বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে ভুল করেছে। তিনি মনে করেন, পাকিস্তানের হাতে এখনও ‘ট্রাম্প কার্ড’ রয়েছে এবং এই সুযোগ ভবিষ্যতে আর নাও আসতে পারে। যদিও তিনি এটাও স্বীকার করেছেন, এমন সিদ্ধান্তে পাকিস্তান ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে।

তবে এই মতের সঙ্গে একমত নন পিসিবির একাংশ। বোর্ডের অন্দরের সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশের দাবির প্রতি সহানুভূতি থাকলেও বিশ্বকাপ বয়কট করা পাকিস্তানের পক্ষে বাস্তবসম্মত নয়। কারণ, পাকিস্তানের ম্যাচ ইতিমধ্যেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজন করা হয়েছে। ফলে বয়কটের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উপযুক্ত যুক্তি নেই বলেই মনে করছে বোর্ড।

অন্যদিকে, ভারতের ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য মদন লাল এই পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ না খেলার পথে উৎসাহ দিচ্ছে পাকিস্তানই, মূলত ভারতকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে।

এক সাক্ষাৎকারে মদন লাল বলেন, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে ভারতের কোনও ক্ষতি হবে না, বরং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশই—বিশেষ করে আর্থিক ও ক্রীড়া উন্নয়নের দিক থেকে। তাঁর মতে, পুরো বিষয়টির পিছনে খেলার চেয়ে রাজনীতির ভূমিকা অনেক বেশি।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশের ক্রিকেট রাজনীতিতে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কে কোন পথে হাঁটে, তা এখনই বলা কঠিন, তবে বিশ্বকাপের আগে এই বিতর্ক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Category