এই রবিবার, বাংলার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটতে চলেছে। একদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গবাসীর জন্য নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের শুভসূচনা করবেন, অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সিঙ্গুরে জনসভা করবেন। এই দুই ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
শিলিগুড়ি সফরে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করবেন। গত অক্টোবরে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর তিনি মন্দির নির্মাণের ঘোষণা করেছিলেন, এবং ইতিমধ্যেই জমি নির্ধারণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এটি দিঘার জগন্নাথ মন্দির ও নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গনের পর উত্তরবঙ্গের জন্য একটি বড় ধর্মীয় অবকাঠামো হবে।
এর পাশাপাশি, শনিবার জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবন উদ্বোধন হতে চলেছে। পাহাড়পুরে প্রায় ৪০ একর জমির উপর নির্মিত এই ভবন উত্তরবঙ্গবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুর্য কান্ত এবং অন্যান্য হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ও বিশিষ্ট অতিথিরা। এটি রাজ্যের প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে অন্য বার্তা দিচ্ছে সিঙ্গুর। ১৮ জানুয়ারি ‘টাটার মাঠে’ জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সেই জমিতে একসময় টাটা ন্যানো কারখানা গড়ে ওঠার কথা ছিল, যা ২০০৮ সালের আন্দোলনের কারণে স্থগিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনই ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় আসতে সাহায্য করে। সাড়ে ১৭ বছর পর সিঙ্গুরে মোদীর সভা রাজনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
একদিকে মমতার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক বার্তা, অন্যদিকে মোদীর শিল্পায়ন ও রাজনৈতিক প্রভাব, সব মিলিয়ে এই সপ্তাহান্তে বাংলা রাজনীতিতে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।
- Log in to post comments