মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অফ পিস’ উদ্যোগের সূচনায় বিশ্ব রাজনীতিতে স্পষ্ট বিভাজনের ছবি উঠে এল। শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে এই শান্তি উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ১৯টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রতিনিধিরা।
আমেরিকার তরফে প্রায় ৬০টি দেশকে এই আন্তর্জাতিক শান্তি পর্ষদে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেল, বহু গুরুত্বপূর্ণ দেশ হয় এই প্রস্তাবে সরাসরি না জানিয়েছে, নয়তো এখনও সিদ্ধান্তহীন অবস্থানেই রয়েছে। ইউরোপের সুইডেন ও ফ্রান্স আগেই এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দেয়। ভারত ও চিনের মতো প্রভাবশালী দেশ আমন্ত্রণ পেলেও এখনো তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেনি।
‘বোর্ড অফ পিস’-এর সূচনালগ্নে যেসব ১১টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত ছিলেন, তারা হল—
আর্জেন্টিনা, আর্মেনিয়া, আজ়ারবাইজান, বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, কসোভো, পাকিস্তান, প্যারাগুয়ে ও উজবেকিস্তান।
এছাড়া ৮টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন অনুষ্ঠানে। এই দেশগুলি হল—
বাহরিন, জর্ডন, মরক্কো, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং মঙ্গোলিয়া।
এই উদ্যোগের সূচনায় ভারতের কোনও প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিলেন না। একইভাবে অনুপস্থিত ছিল চিন, থাইল্যান্ড, ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনও দেশ। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়াদিল্লি এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাশিয়া ও ফ্রান্সের মতো কৌশলগত অংশীদারদের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করতে চাইছে।
প্রাথমিকভাবে গাজ়া সংকটে শান্তি ফেরানোর উদ্দেশ্যে এই বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও, ট্রাম্পের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত। তাঁর লক্ষ্য একটি স্থায়ী আন্তর্জাতিক শান্তি মঞ্চ তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে।
এই বোর্ডে যোগ দিলে দেশগুলি তিন বছরের সদস্যপদ পাবে। আর ১০০ কোটি মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ৯ হাজার কোটি টাকা) অনুদান দিলে মিলবে স্থায়ী সদস্যপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শক্তিধর দেশগুলির অংশগ্রহণ ছাড়া এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
- Log in to post comments