২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মবার্ষিকী। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে যাঁর নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে, সেই নেতাজির জীবন ও আদর্শ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে পথ দেখায়। জন্মের তথ্য ইতিহাসে স্পষ্ট হলেও, তাঁর অন্তর্ধান আজও রহস্যে ঢাকা। তবে একটি বিষয়ে কোনও প্রশ্ন নেই-নেতাজি আজও অমর, তাঁর আদর্শে ও বাণীতে।

“তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব”-এই আহ্বান শুধু স্বাধীনতা সংগ্রামের স্লোগান নয়, বরং আত্মত্যাগ ও সাহসের প্রতীক। নেতাজির এমন বহু উক্তি রয়েছে, যা কেবল স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়েই নয়, বর্তমান জীবনেও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

নেতাজি বিশ্বাস করতেন, কোনও মহান চিন্তা বা আদর্শ কখনও মৃত্যুবরণ করে না। একজন মানুষ মারা যেতে পারেন, কিন্তু তাঁর ভাবনা হাজার মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে নতুন শক্তি হয়ে। তিনি বারবার বলেছেন, অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। সাহস, আত্মশক্তি ও সত্যনিষ্ঠাই মানুষের প্রকৃত শক্তি-টাকা বা বাহ্যিক আড়ম্বর দিয়ে স্বাধীনতা বা জয় কেনা যায় না।

তাঁর বাণীতে উঠে এসেছে সামাজিক সমস্যার কথাও। দারিদ্র্য, অশিক্ষা, রোগ ও উৎপাদনের ঘাটতি-এই সমস্যাগুলির সমাধান সম্ভব কেবল সামাজিক চিন্তা ও সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে। তিনি মনে করতেন, সংগ্রাম ও ঝুঁকি ছাড়া জীবন ফিকে হয়ে যায়, আর উচ্চ চিন্তাই মানুষের দুর্বলতা দূর করতে পারে।

নেতাজির মতে, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ ও শিক্ষার অভাবে জীবন তার রস ও অনুপ্রেরণা হারায়। সত্যকে গ্রহণ করা এবং নিজের প্রতি সৎ থাকাই মানুষকে বিশ্বমানবের প্রতি সৎ করে তোলে। ভয় ও সন্দেহ কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়াই প্রগতির পথ।

জন্মবার্ষিকীর প্রাক্কালে নেতাজির এই অনুপ্রেরণামূলক বাণীগুলি আবার নতুন করে স্মরণ করছেন দেশবাসী। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, এক্স (টুইটার) সহ নানা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার হচ্ছে তাঁর কথা। সময় বদলালেও নেতাজির আদর্শ আজও একইভাবে প্রাসঙ্গিক-দেশ, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে সাহস, সত্য ও আত্মত্যাগের পথ দেখাতে।
- Log in to post comments