রাজধানী দিল্লিতে কুখ্যাত অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও এক ‘লেডি ডন’-কে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশ-এর স্পেশ্যাল সেল। ধৃত খুসনুমা আনসারি ওরফে নেহা, যিনি অপরাধজগতে ‘ম্যাডাম জ়হর’ নামে পরিচিত। অভিযোগ, কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিশ্নোই চক্রের মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নেহা দীর্ঘদিন ধরে শার্পশুটার ববি কবুতরের সঙ্গী। ববির আসল নাম মহফুজ়। তিনি বিশ্নোই গ্যাং এবং হাশিম বাবা গোষ্ঠীর জন্য অস্ত্র ও অবৈধ সামগ্রী সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ। সম্প্রতি নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মহিপালপুর উড়ালপুলের কাছে একটি গাড়ি আটক করে পুলিশ। সেখান থেকেই ববি ও নেহাকে গ্রেফতার করা হয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তান-যোগ থাকা এক অস্ত্র সরবরাহকারীর কাছ থেকে উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করেছিলেন ববি। সেই অস্ত্র বিভিন্ন আলোচিত অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, যার মধ্যে পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসে ওয়ালা হত্যাকাণ্ড, অভিনেত্রী দিশা পটানি-র বাসভবনের বাইরে গুলি চালানো এবং দিল্লির একাধিক খুনের ঘটনা রয়েছে।
পুলিশের মতে, দ্বৈত জীবন যাপন করতেন নেহা। দিনে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করলেও রাতে সেই পার্লারের আড়ালেই চলত অপরাধচক্রের কাজকর্ম। মাদক পাচার এবং অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনার ক্ষেত্রেও ওই পার্লার ব্যবহার করা হত বলে অভিযোগ।
নেহা ও ববির সম্পর্ক প্রায় সাত বছরের। শার্পশুটার ববির হাত ধরেই অপরাধজগতে তাঁর উত্থান বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। বর্তমানে দু’জনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এনসিআর অঞ্চলে সক্রিয় গ্যাং সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং আর্থিক লেনদেনের সূত্র খুঁজতেই জেরা করা হচ্ছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ২০২২ সালে সিধু মুসে ওয়ালা হত্যার আগে সম্ভাব্য হামলার জায়গা চিহ্নিত করতে রেকি করেছিলেন ববি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গায়কের গতিবিধি নজরদারি করে সেই তথ্য শুটারদের কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
গত কয়েক মাস ধরে ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশের নজর এড়িয়ে চলছিলেন ববি ও নেহা। প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাঁদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
- Log in to post comments