ভারতের উপর আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেস্যান্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে এই অতিরিক্ত শুল্ক ভবিষ্যতে তুলে নেওয়া হতে পারে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, শুল্ক নীতির মাধ্যমে আমেরিকা তার লক্ষ্য অনেকটাই অর্জন করেছে।
বেস্যান্টের দাবি, ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। যদিও আপাতত এই ২৫ শতাংশ শুল্ক বহাল রয়েছে, তবে তিনি বলেন, “এখন এমন একটি পথ রয়েছে, যার মাধ্যমে এই শুল্ক সরানো সম্ভব।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত।
বর্তমানে আমেরিকা ভারত থেকে আমদানি হওয়া বহু পণ্যের উপর মোট ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ শতাংশ সাধারণ শুল্ক, যা ভারতের প্রায় ৫৫ শতাংশ রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিরুৎসাহিত করতে ২০২৫ সালের অগাস্ট থেকে আরও ২৫ শতাংশ তেল-সংক্রান্ত জরিমানা শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, এই চাপের ফলেই রাশিয়ার তেলের উপর ভারতের নির্ভরতা কমেছে। কিছু রিপোর্টে বলা হয়েছে, রিলায়েন্সের মতো বড় ভারতীয় রিফাইনারি সংস্থা ২০২৬ সালের শুরুতে রাশিয়ান তেল কেনা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। যদিও ভারত সরকার জানিয়েছে, জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্ত সবসময় জাতীয় স্বার্থ ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়।
এদিকে, ট্রাম্প আরও এক ধাপ এগিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা বন্ধ না করলে কিছু দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসানো হতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি বিল ইতিমধ্যেই মার্কিন আইনসভায় আলোচনায় রয়েছে। রিপাবলিকান নেতা লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, শীঘ্রই এই বিল পেশ করা হতে পারে। আইনটি পাশ হলে, রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তা তেল কিনে যুদ্ধের অর্থ জোগানো দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সম্ভাব্য তালিকায় ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিলের নামও উঠে এসেছে।
- Log in to post comments