যুবভারতী কাণ্ডে ৩৭ দিন পর জামিন শতদ্রু দত্তের, কড়া শর্তে মুক্তি

যুবভারতী কাণ্ডে ৩৭ দিন পর জামিন শতদ্রু দত্তের, কড়া শর্তে মুক্তি

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত অবশেষে জামিন পেলেন। টানা ৩৭ দিন জেলবন্দি থাকার পর সোমবার আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান তিনি। এর আগে দু’দফায় তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছিল।

গত ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় চরম গাফিলতির জেরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই ঘটনার পরেই মূল আয়োজক হিসেবে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রথমে তাঁকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়, পরে দু’দফায় বিচারবিভাগীয় হেফাজতেও ছিলেন তিনি।

তদন্তকারীদের জেরায় শতদ্রু দাবি করেছিলেন, মেসির মাঠে থাকার সময়সীমা নিয়ে আগেই একটি পরিকল্পনা তৈরি ছিল। কিন্তু মাঠে প্রবেশের পরই পরিস্থিতি বদলে যায় এবং সেই পরিকল্পনা কার্যত ভেঙে পড়ে। শনিবারের বিশৃঙ্খলার জন্য নিজেকে দায়ী করেননি তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেসি মাঠে ঢোকার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বহু দর্শকের অভিযোগ ছিল, উচ্চমূল্যের টিকিট কেটেও তাঁরা মেসিকে ঠিকমতো দেখতে পাননি। মাঠে ছবি তোলার জন্য দর্শকদের হুড়োহুড়িতে বিরক্ত হন মেসি। অভিযোগ, কেউ কেউ তাঁর গায়ে হাত দিয়েও ছবি তুলতে চেষ্টা করেন। এরপরই নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বিশ্ব ফুটবলের এই তারকা।

মেসি মাঠ ছাড়তেই স্টেডিয়ামজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ভাঙচুর শুরু হয় বিভিন্ন জায়গায়। চেয়ার ভাঙা, সম্প্রচারকারী সংস্থার যন্ত্রাংশ নষ্ট করা, এমনকি স্টেডিয়ামের বাইরে রাখা ফুলের টব চুরি যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রথমে পুলিশ হিমশিম খায়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী ও র‍্যাফ নামিয়ে নিয়ন্ত্রণে আনা হয় পরিস্থিতি।

ঘটনার দিনই হায়দরাবাদ যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল শতদ্রু দত্তকে। অবশেষে আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করলেও কড়া শর্ত দিয়েছে। আপাতত তিনি কলকাতার বাইরে যেতে পারবেন না বলেই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Category