বিজেপির কনিষ্ঠতম জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, ৪৫ বছরেই শীর্ষ দায়িত্বে

বিজেপির কনিষ্ঠতম জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন, ৪৫ বছরেই শীর্ষ দায়িত্বে

বিজেপির সর্বভারতীয় রাজনীতিতে নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই দলের জাতীয় সভাপতির দায়িত্ব নিতে চলেছেন নীতিন নবীন। দলীয় সূত্রে খবর, তিনি কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই পদে নির্বাচিত হচ্ছেন। সোমবার জাতীয় সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে নীতিন নবীন নিজের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তাঁর বিপরীতে কোনও প্রার্থী না থাকায় আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা মাত্র।

দলীয় সংবিধান অনুযায়ী, দেশের অন্তত অর্ধেক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রাজ্য সভাপতি নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরেই জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। সেই নিয়ম মেনে ৩৬টির মধ্যে ৩০টি রাজ্যে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ জাতীয় সভাপতি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

১৯ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়ন জমা নেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যেই নীতিন নবীনের পক্ষে মোট ৩৭ সেট মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ৩৬টি এসেছে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এবং একটি বিজেপির সংসদীয় দলের তরফে। প্রতিটি মনোনয়নপত্রে ২০ জন করে প্রস্তাবকের স্বাক্ষর ছিল। যাচাই শেষে সব ক’টি মনোনয়নই বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় জাতীয় সভাপতি পদে একমাত্র প্রার্থী হিসেবেই নীতিন নবীনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। ফলে ভোটাভুটির সম্ভাবনা কার্যত নেই। যদিও দলীয় সূচি অনুযায়ী প্রয়োজনে ভোট হতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। আগামী ২০ জানুয়ারি তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে এবং মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

সোমবার সারাদিন বিজেপির সদর দফতরে ছিল ব্যাপক ব্যস্ততা। উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা, নিতিন গডকড়ির মতো শীর্ষ নেতারা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সংসদীয় দলের প্রস্তাবক হিসেবে মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেন।

বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর বলেন, নীতিন নবীনের জাতীয় সভাপতি হওয়া শুধু দলের নয়, দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে যোগ্যতা থাকলে অল্প বয়সেও বড় দায়িত্ব পাওয়া সম্ভব।

এদিকে নীতিন নবীনের স্ত্রী দীপমালা জানান, এই মুহূর্ত তাঁদের পরিবারের কাছে অত্যন্ত আবেগের। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি এই দায়িত্ব পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নীতিন নবীন বিহারের প্রভাবশালী নেতা এবং টানা পাঁচবারের বিধায়ক। ২০০৬ সালে প্রথম বিধানসভায় প্রবেশের পর থেকে তিনি রাজ্যের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০১০ সাল থেকে বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংগঠক হিসেবে দলের অন্দরে তাঁর পরিচিতি সুদৃঢ়। সম্প্রতি তাঁকে বিজেপির জাতীয় কার্যকরী সভাপতি করা হয়েছিল। এবার তিনি দলের দ্বাদশ সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন।

রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নীতিন নবীনের নেতৃত্বে বিজেপির সংগঠন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলে নতুন দিশা দেখা যেতে পারে।

Category