অবৈধভাবে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর উত্তোলনের ভয়াবহ পরিণতি সামনে এল কর্নাটকে। বেঙ্গালুরুর অদূরে এক খনন এলাকায় ছিন্নভিন্ন অবস্থায় উদ্ধার হল চারটি লেপার্ডের দেহ। নিহতদের মধ্যে একটি অন্তঃসত্ত্বা লেপার্ডও ছিল বলে বন দফতর সূত্রে জানা গেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরু গ্রামীণ জেলার যশবন্তপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মানচনাবেলে এলাকার চিক্কানাহল্লিতে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় বেআইনি ভাবে ব্লাস্টিং করে পাথর তোলা হচ্ছিল। সেই বিস্ফোরণের জেরেই প্রাণ হারায় বিরল এই বন্যপ্রাণীরা।
বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, লেপার্ডগুলির দেহ অত্যন্ত বিকৃত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে, যা বিস্ফোরণের তীব্রতার দিকেই ইঙ্গিত করে। ঘটনার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে অবৈধ খননের খবর থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?

এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন যশবন্তপুরের বিজেপি বিধায়ক এস টি সোমশেখর। তিনি বন দফতরের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে বলেন, “রাজ্যে একের পর এক বন্যপ্রাণীর মৃত্যু ঘটছে, অথচ বন বিভাগ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবৈধ ব্লাস্টিং চলছিল এবং বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও মন্ত্রী ও আধিকারিকদের তরফে উদাসীনতা দেখা গেছে।
বিধায়ক আরও জানান, তিনি একাধিকবার বনমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কোনও সাড়া পাননি। ইতিমধ্যেই বন দফতরকে লিখিতভাবে জানিয়ে অবিলম্বে বেআইনি খনন বন্ধ, দোষীদের চিহ্নিতকরণ এবং লেপার্ড মৃত্যুর দায় নির্ধারণের দাবি তোলা হয়েছে।
এই ঘটনা নতুন করে কর্নাটকে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, অবৈধ খনন এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। একদিকে সুপ্রিম কোর্ট আরাবল্লি এলাকায় খনন সংক্রান্ত নির্দেশে আপাতত স্থগিতাদেশ দিলেও, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অবৈধ পাথর উত্তোলন যে এখনও ভয়াবহভাবে চলছে, কর্নাটকের এই ঘটনা তারই নির্মম প্রমাণ।
- Log in to post comments