২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন বছরের প্রথম দিনেই অসমে ভোটের আবহ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ‘নতুন দিনের আলাপ’ কর্মসূচিতে তিনি জানালেন, এবারের নির্বাচনে রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রে থাকবে পরিচয় ও উন্নয়ন আর সেই সঙ্গে বেআইনি বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ প্রশ্নে কড়া অবস্থান।
হিমন্তের বক্তব্য, অসমের ভূমিপুত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে রাজ্যের সার্বিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে সরানোই সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি স্পষ্ট করেন, “আর নরম হওয়ার সময় নেই। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, কেউ বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত হলেই জেলা প্রশাসন তাকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও অসম সফরে গিয়ে একই ইস্যুতে কড়া বার্তা দিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও অসম দুই রাজ্যেই অবৈধ অনুপ্রবেশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে সামনে আনছে বিজেপি।
হিমন্ত জানান, অতীতে বিদেশি ট্রাইবুনালের রায়ের পর কেন্দ্র ও বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলত, যা সময়সাপেক্ষ এবং অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর ছিল। তাঁর কথায়, “এবার সেই জটিলতার আর সুযোগ নেই। অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশিদের পুশব্যাক করা হবে।”
পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে ১,৫১৭ জনকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত ১,০৪৩ জনকে রাজ্যের বাইরে পাঠানো হয়েছে।
ধর্মীয় ও সামাজিক প্রসঙ্গ টেনে হিমন্ত বলেন, রাজ্যের হিন্দু সমাজের উদ্বেগ উপেক্ষা করা যায় না। একই সঙ্গে তিনি আহ্বান জানান, অসম ও ভারতের বৈধ মুসলিম নাগরিকদেরও রাজ্যের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে। তাঁর মতে, বহুবিবাহ ও নাবালিকা বিয়ে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপে বহু মুসলিম মহিলা সন্তুষ্ট, এবং এই সংস্কারমূলক নীতির প্রশংসাও করছেন।
সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর ভোটের আগে অনুপ্রবেশ, পরিচয় ও উন্নয়ন এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই অসমে রাজনৈতিক সুর বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
- Log in to post comments