রাজ্যের প্রশাসনে ইতিহাস গড়ে মুখ্যসচিবের দায়িত্ব নিতে চলেছেন আইএএস অফিসার নন্দিনী চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জগদীশ মিনাকে। এতদিন স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। অন্যদিকে, বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নন্দিনী চক্রবর্তী রাজ্যের প্রথম মহিলা মুখ্যসচিব এবং একই সঙ্গে প্রথম মহিলা বাঙালি মুখ্যসচিব। তিনি ১৯৯৪ ব্যাচের আইএএস অফিসার। তাঁর প্রশাসনিক কর্মজীবন শুরু হয় বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মহকুমা শাসক হিসেবে। পরে তিনি বর্ধমানের মহকুমা শাসক, বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং হাওড়ার জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাজ্য সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের সচিব ছিলেন। স্বাস্থ্য, শিল্প, তথ্য ও সংস্কৃতি, পর্যটন, সুন্দরবন বিষয়ক দফতর, কেএমডিএ, বায়োটেকনোলজি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সহ একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।
রাজনৈতিক মহলে নন্দিনী চক্রবর্তীকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর প্রশাসনিক জীবনে বিতর্কও কম নেই। এক সময় তিনি রাজ্যপালের প্রধান সচিব ছিলেন। সেই সময় রাজভবন ও নবান্নের সংঘাত প্রকাশ্যে আসে এবং তৎকালীন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেন। পরে তাঁকে পর্যটন দফতর এবং ২০২৩ সালে স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এর আগেও মন্ত্রীর সঙ্গে মতবিরোধে জড়িয়েছিলেন নন্দিনী চক্রবর্তী। তৎকালীন সুন্দরবন উন্নয়নমন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরার সঙ্গে প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এবং দুর্নীতি রুখতে গিয়ে তাঁকে দফতর পরিবর্তনের মুখে পড়তে হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চলতি বছরেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই প্রশাসনিক স্তরে বড় রদবদল করলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুধবার শেষ হয়েছে বিদায়ী মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের মেয়াদ। ১৯৯১ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ পন্থের অবসর জুনে হওয়ার কথা থাকলেও কেন্দ্রের অনুমোদনে তাঁকে ছয় মাসের এক্সটেনশন দেওয়া হয়েছিল। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই নন্দিনী চক্রবর্তীর হাতে তুলে দেওয়া হল রাজ্যের প্রশাসনিক সর্বোচ্চ দায়িত্ব।
- Log in to post comments