পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকের অল্প সময়ের মধ্যেই রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ নৌমহড়া চালাল ইরান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার ও সামরিক সহযোগিতা বাড়াতেই ওমান উপসাগর এবং উত্তর ভারত মহাসাগর অঞ্চলে এই মহড়া আয়োজন করা হয়েছে। এতে অংশ নেয় ইরানের যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী নৌযান, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ বাহিনী।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ সম্প্রতি সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল। ওই বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে একটি প্রাথমিক বোঝাপড়ার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটনের তরফে স্পষ্ট ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়নি। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্তে এখনও সম্মত হয়নি তেহরান।
এই পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর নেতৃত্বাধীন দেশটি যখন ভ্লাদিমির পুতিন-এর রাশিয়া-কে সঙ্গে নিয়ে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে, তখন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার জলসীমার কাছে অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে খবর। এর পাল্টা হিসেবে হরমুজ প্রণালীর কাছে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও সামরিক মহড়াও চালিয়েছে ইরান।
পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। সংস্থার অভিযোগ, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা তৈরি করতে পারে। যদিও এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে তেহরান।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
- Log in to post comments