জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান আবারও ড্রোন পাঠাচ্ছে। ভারতীয় সেনা জানাচ্ছে, গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছিলেন যে নিয়ন্ত্রণরেখায় ড্রোন ওড়ানোর বিষয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরও বৃহস্পতিবার পুঞ্চ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণরেখায় একটি সন্দেহজনক উড়ন্ত বস্তু দেখা যায়।
সেনা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭:৩০টার দিকে দেগওয়ার এলাকায় ভারতীয় সেনার একটি চৌকির কাছে ড্রোনটি দেখা যায়। সেনারা প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি চালালেও সেটি ধ্বংস করা যায়নি এবং কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে চলে যায়।
সেনা জানিয়েছে যে এই ড্রোনগুলো কামিকাজি বা হামলাকারী ড্রোন নয়। এগুলো মূলত ছোট, নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহৃত এবং বিস্ফোরকবিহীন। ড্রোনগুলো খুব নিচু উচ্চতায় ওড়ে এবং আলো জ্বলছে, অর্থাৎ সহজেই চিহ্নিত করা যায়। সেনা আধিকারিকদের মতে, যদি পাকিস্তান আসল হামলার উদ্দেশ্যে পাঠাত, তবে এমনভাবে চিহ্নিতযোগ্য ড্রোন পাঠানো হতো না।
সেনা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তান এই ধরনের ড্রোন পাঠাচ্ছে তিনটি কারণে:
- আকাশ প্রতিরক্ষা পরীক্ষা: পাকিস্তান বুঝতে চাইছে ভারতের রাডার এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা কতটা সক্রিয় এবং ড্রোন নজরে এলে কত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
- সীমান্ত নজরদারি: কোন এলাকায় সেনার উপস্থিতি বেশি বা সীমান্ত কতটা সংবেদনশীল তা বোঝার জন্য।
- সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের গ্যাপ খোঁজা: পাকিস্তান এমন জায়গা শনাক্ত করতে চাইছে, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা দুর্বল, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করা যেতে পারে।
সেনা জানিয়েছে যে, পাকিস্তানের কোনও প্রচেষ্টা এখনও সফল হয়নি। প্রতিটি ড্রোন হামলা ভারতীয় ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত হয়েছে।
কিছু ড্রোন ব্যবহার করা হয় উপত্যকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের কাছে অস্ত্র বা ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সম্প্রতি এক ড্রোন গুলি করে নামিয়ে নেওয়া হয়, যেখানে পিস্তল, ম্যাগাজিন, কার্তুজ এবং গ্রেনেড পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য ড্রোনে অস্ত্র দেখা যায়নি। সেনারা মনে করছেন, মূল উদ্দেশ্য এখানে নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহ।
- Log in to post comments