প্রথাগতভাবেই বিজেপির জাতীয় সভাপতির পদে প্রার্থী একাই মনোনয়ন দিলে ভোটপ্রক্রিয়া ছাড়াই জয়ী হন। এবারও সেই পথ অনুসরণ করে বর্তমান কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীন একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন।
বাংলা পঞ্জি অনুযায়ী এইবারের সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আগামী সোমবার, মাঘ মাসের প্রতিপদে মনোনয়ন জমা এবং স্ক্রুটিনি হবে, আর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট মাত্র দু’মাস দূরে, তাই এই সময়সূচি রাজনীতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে দল।
বাংলা ক্যালেন্ডারের মাঘ মাস ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে। মাঘ মাসকে শুভ মনে করেন বহু বাঙালি হিন্দু। এক রাজ্য নেতার মতে, “মাঘ মাসে নতুন সভাপতির নির্বাচন হলে দলের শক্তি ও শ্রীবৃদ্ধি বাড়বে, যা বাংলা ভোটে প্রতিফলিত হবে।”
নিতিন নবীন ১৯ জানুয়ারি, সোমবার প্রতিপদে মনোনয়ন জমা দেবেন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারিত। তার আগে ১৬ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। নিতিনের নাম সমর্থনের জন্য তিনটি মনোনয়ন সেট থাকবে। প্রথম সেটে স্বাক্ষর করবেন বিভিন্ন রাজ্যের সভাপতিরা, দ্বিতীয় সেটে কেন্দ্রীয় নেতারা যেমন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তৃতীয় সেটে নবীনের প্রস্তাব থাকবে দলের জাতীয় পরিষদের সদস্যদের স্বাক্ষরসহ।
মনোনয়ন ও স্ক্রুটিনি শেষ হওয়ার পর সাংবাদিকদের জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে। যদি নিতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী না আসে, তবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তার নাম ঘোষণা করা হবে।
নিতিন নবীন ৪৫ বছরের মধ্যে বিজেপির সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হবেন। এর ফলে দলের কিছু দ্বিতীয় সারির নেতা ক্ষুব্ধ হতে পারেন। বিশেষ করে ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও নির্মলা সীতারামনের মতো নেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
নতুন সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার কিছু দিনের মধ্যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হবে। এর মধ্যে অসম ও পুদুচেরি ছাড়াও তিন রাজ্যে বিজেপির জন্য চ্যালেঞ্জ থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গকে ‘নজরের ভেতর’ রাখা হয়েছে। অতীতে বঙ্গবিজয়ে বারবার চেষ্টা ব্যর্থ হলেও নতুন সভাপতির নেতৃত্বে দল কি এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে, তা এখন দেখার বিষয়।
- Log in to post comments