কম দামে ভালো, পাকিস্তান-তুরস্ককে হারিয়ে আফগান বাজারে জিতল ভারতীয় প্যারাসিটামল

কম দামে ভালো, পাকিস্তান-তুরস্ককে হারিয়ে আফগান বাজারে জিতল ভারতীয় প্যারাসিটামল

ভারতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করছে, বাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে। আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল ঘানি বরাদার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের পাকিস্তানকে ছেড়ে ভারত, ইরান এবং মধ্য এশিয়ার ওষুধের দিকে নজর দিতে অনুরোধ করেছেন। এই সুযোগে ভারতীয় সংস্থাগুলো বাজার দখল করতে তৎপর।

এই পরিস্থিতি তৈরি হয় গত অক্টোবর-নভেম্বরে পাকিস্তান-আফগান সংঘর্ষের পর, যখন তালিবান প্রশাসন আফগান ব্যবসায়ীদের ইসলামাবাদ থেকে ওষুধ কেনা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছিল। ভারতীয় সংস্থাগুলো দ্রুত এই বাজারে প্রবেশ করে এবং আফগান ফার্মাসিউটিক্যাল ক্ষেত্রে শক্তিশালী উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে।

আফগান ব্লগার ফজল আফগান সম্প্রতি তাঁর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি স্থানীয় একটি দোকানে জ্বরের জন্য পরিচিত ওষুধ “প্যারল” কিনতে যান, যা পাকিস্তান ও তুরস্কে জনপ্রিয়। দোকানদার জানান, একই ওষুধ ভারতীয় সংস্থা তৈরি করছে, যা পাকিস্তানি ওষুধের চতুর্থাংশ দামে পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তানি প্যারল ১০ ট্যাবলেটের জন্য ৪০ আফগানি, যেখানে ভারতীয় প্যারাসিটামল মাত্র ১০ আফগানিতে পাওয়া যায় এবং কার্যকরীতাও বেশি। ফজল জানিয়েছেন, ওষুধ খাওয়ার পর তাঁর মাথাব্যথা দ্রুত কমে গেছে, যা ভারতীয় পণ্যকে বাজারে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

ভারতের আফগানিস্তানে ওষুধ রপ্তানি ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। ২০২৪-২৫ সালে নয়াদিল্লি কাবুলে ১০৮ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ পাঠিয়েছে। ২০২৫ সালের বাকি ৯ মাসে ইতিমধ্যেই ১০০ মিলিয়ন ডলারের ওষুধ বিক্রি করা হয়েছে। গত নভেম্বরে আফগান বাজারে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিলে ভারত ৭৩ টন জরুরি ওষুধ পাঠিয়েছে এবং এর আগে প্রায় ৫ টন ভ্যাকসিন সরবরাহ করেছিল।

বরাদার পাকিস্তানি ওষুধের মান নিয়ে সমালোচনা করে বলেছেন, আফগান ব্যবসায়ীদের ভারত, ইরান ও মধ্য এশিয়ার ওষুধের দিকে ঝুঁকতে হবে। আফগান বাজারে ভারতীয় প্যারাসিটামলের সম্প্রতি পাওয়া সাফল্য দেখাচ্ছে, পাকিস্তানি পণ্যকে ধীরে ধীরে প্রতিস্থাপিত করা সম্ভব হচ্ছে।

Category