পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি শুক্রবার আলিপুর কোর্টে দায়ের করা হয়। শুভেন্দু জানিয়েছেন, যদি তিনি মামলায় জিতেন, তবে ওই অর্থ দান-ধ্যান কাজে ব্যবহার করবেন।
শুভেন্দু অধিকারী আগে মমতাকে আইনি নোটিস পাঠিয়ে সতর্ক করেছিলেন। নোটিসে বলা হয়েছিল, ৮ ও ৯ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন তা ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর। নোটিসে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তার মন্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ দেখানোর জন্য বলা হয়েছিল। নোটিসের কোনো জবাব না আসায় শুভেন্দু এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
মামলার মূল বিষয় হলো কয়লা কেলেঙ্কারি ও ইডি তল্লাশির ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য। মমতা অভিযোগ করেছেন, আইপ্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের অফিস এবং সল্টলেকের অফিসে ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) তল্লাশি চালায়। মমতার দাবি অনুযায়ী, তল্লাশির সময় তৃণমূলের ভোট সম্পর্কিত তথ্য চুরি হতে পারে এবং ওই ঘটনায় শাহ ও শুভেন্দুর নাম জড়ানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর আইনজীবী সুর্যনীল দাস নোটিসে উল্লেখ করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে প্রমাণ দেখাতে হবে। নইলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মানহানির মামলা করা হবে। নোটিসে আরও বলা হয়, “আপনার নীরবতা আপনাকে রক্ষা করতে পারবে না। আদালতে টানা হবে। যদি প্রমাণ দেখাতে না পারেন, ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দিতে হবে। যা পরবর্তীতে দান-ধ্যান কাজে ব্যবহার করা হবে।”
শুভেন্দু অধিকারী আদালতে মামলার প্রমাণও পেশ করেছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার প্রতিশ্রুতি রেখেছি। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যে আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তা জঘন্য এবং সম্পূর্ণ কাল্পনিক। আদালতের মাধ্যমে আমি সঠিক প্রতিকার পাব। মামলায় জিতলে ১০০ কোটি টাকা দান-ধ্যান কাজে ব্যবহার করব।”
শুভেন্দু অভিযোগ করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছেন এবং জনগণের সামনে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করছেন। মামলার মাধ্যমে তিনি নিজের সম্মান রক্ষা ও মানহানির প্রতিকার চান।
- Log in to post comments