আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে মুম্বইয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে চমক দেন বলিউড তারকা সলমন খান। অনুষ্ঠানে তিনি মনোযোগ সহকারে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত–এর বক্তব্য শোনেন। তাঁর পাশেই বসেছিলেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা সুভাষ ঘাই ও প্রখ্যাত গীতিকার-লেখক প্রসূন যোশী।
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মোহন ভাগবত বলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কাজ বিশ্বের অন্য যে কোনও সংগঠনের থেকে আলাদা। তাঁর মতে, ‘হিন্দু’ কোনও বিশেষ্য নয়, এটি একটি বিশেষণ ভারতে যাঁরা বাস করেন, সকলেই এই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ।
আরএসএস প্রধান আরও বলেন, সংঘ শুরু থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে তাদের কাজ শুধুমাত্র সমাজকে সংগঠিত করা। সংঘ কোনও রাজনৈতিক দল নয় এবং ক্ষমতা বা জনপ্রিয়তার সন্ধান করে না। তিনি স্পষ্ট করেন, আরএসএসের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারেন, কিন্তু সংঘ নিজে রাজনীতির পথে হাঁটে না।
ধর্ম ও সমাজব্যবস্থা প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, ভারতের চিরন্তন স্বভাব আজও অপরিবর্তিত। ভারতীয় ঐতিহ্যে সকলকে সঙ্গে নিয়ে এগোনোর ভাবনাই মূল শক্তি। শৃঙ্খলা ছাড়া সমাজ এগোতে পারে না এবং কাউকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাগবত আরও বলেন, ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানরাও দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিশ্বনেতৃত্ব প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, ভারত বক্তৃতার মাধ্যমে নয়, কাজের উদাহরণ তৈরি করেই বিশ্বে নেতৃত্ব দেবে।
পরিচয় নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সমাজে ‘হিন্দু’ পরিচয় নিয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন রকমের। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা ড. কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার–এর উদাহরণ টেনে ভাগবত বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও পড়াশোনা ও দেশের কাজে সক্রিয় থাকা এই দুই আদর্শ তিনি কখনও ছাড়েননি।
ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে ভাগবতের মন্তব্য, শব্দটির অর্থ প্রায়ই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। তাঁর মতে, ধর্ম ভারতের সামাজিক জীবনব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
- Log in to post comments