মাঘে বাঘের আতঙ্ক, বক্সা জঙ্গলে সাময়িকভাবে বন্ধ শিকারি রোড

মাঘে বাঘের আতঙ্ক, বক্সা জঙ্গলে সাময়িকভাবে বন্ধ শিকারি রোড

বক্সা টাইগার রিজার্ভে ফের বাঘের উপস্থিতি নিশ্চিত হতেই সতর্কতা জারি করল বন দফতর। ট্র্যাপ ক্যামেরায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ছবি ধরা পড়ার পর থেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা কড়া করা হয়েছে। আপাতত জঙ্গল সাফারির জন্য শিকারি রোডে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা অন্তত রবিবার পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলে জানাচ্ছে বন দফতর।

বক্সা টাইগার রিজার্ভ

বৃহস্পতিবার রাতে ধরা পড়া ক্যামেরার ছবি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে, বক্সার জঙ্গলে এখনও বাঘের বিচরণ রয়েছে। প্রায় দু’বছর পর ফের পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘের ছবি মিলতেই বনকর্মীদের তৎপরতা বেড়েছে। বাঘের গতিপথ, চলাচলের এলাকা ও আচরণ বুঝতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

বক্সা টাইগার রিজার্ভের উপ ক্ষেত্র অধিকর্তা (পশ্চিম) হরিকৃষ্ণনান পি.জে. জানিয়েছেন, বাঘের উপস্থিতি পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক ইঙ্গিত। তবে একইসঙ্গে মানুষের নিরাপত্তাও এখন সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বাঘটি কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে, সেটাই নজরদারির মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২৩ বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বক্সায় প্রথম বাঘের ছবি ধরা পড়ে। ২০২৩ সালেও ট্র্যাপ ক্যামেরায় বাঘের অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছিল। এবছর ফের নতুন ছবি পাওয়ায় বনকর্তা ও পরিবেশবিদদের মধ্যে উৎসাহের পাশাপাশি সতর্কতাও বেড়েছে।

বাঘ

বন দফতর সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে টহলের সময় বাঘের পায়ের ছাপ নজরে আসে। এরপর বিভিন্ন এলাকায় নতুন ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানো হয়। তারই ফল হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে বাঘের ছবি পাওয়া যায়। শনিবারও জঙ্গলের ভিতরে পায়ের ছাপ অনুসন্ধান চালিয়েছে বনকর্মীদের দল।

আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আরও প্রায় ৯০টি ট্র্যাপ ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিম বিভাগের ডিএফও নবজিৎ দে জানান, সম্পূর্ণ ফ্রেমে ছবি পাওয়া গেলে বাঘের বয়স, শারীরিক গঠন ও আচরণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

বাঘটি বক্সার স্থায়ী বাসিন্দা নাকি পার্শ্ববর্তী কোনও জঙ্গল থেকে এসেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বন দফতরের অনুমান, ভুটান, অসমের রায়মনা অথবা মানস জাতীয় উদ্যান থেকেও বাঘটি আসতে পারে। তাই প্রতিটি তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

Category