রবিবার সিঙ্গুরে বিজেপির জনসভা থেকে ফের একবার অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সরকারকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা হচ্ছে এবং তার পেছনে রয়েছে ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের পক্ষে ধর্না-আন্দোলন করা হয়, কারণ তারা শাসক দলের নির্দিষ্ট ভোটভিত্তির অংশ। তাঁর দাবি, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কেন্দ্রীয় সরকার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জমি চেয়ে বারবার চিঠি দিয়েছে, কিন্তু তাতে কোনও সহযোগিতা মেলেনি।
মোদীর অভিযোগ, রাজ্য সরকার এই বিষয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে উদাসীন। বরং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে এবং ভুয়ো নথি তৈরির চক্রও সক্রিয়ভাবে চলতে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে নথি যাচাইয়ের মাধ্যমে তাঁদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি শুধু পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। এর প্রভাব পড়ছে রাজ্যের যুবসমাজের ভবিষ্যতের উপরও। তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
এর আগেও শনিবার মালদার এক রাজনৈতিক সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে একই সুরে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন, মালদা ও মুর্শিদাবাদে অনুপ্রবেশের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অশান্তি ও হিংসার ঘটনাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাঁর মতে, এই সমস্যা সামাজিক অস্থিরতার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
মোদী আরও বলেন, বিশ্বের বহু উন্নত দেশ অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে, অথচ পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকায় সেই প্রক্রিয়া কার্যত বাধাপ্রাপ্ত। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের কিছু নেতা ও চক্র অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করে একটি সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যার ফলে স্থানীয় মানুষ কাজ ও জমির অধিকার হারাচ্ছেন।
মালদার সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও নারী নির্যাতনের পেছনেও অনুপ্রবেশ একটি বড় কারণ হয়ে উঠেছে, যা সমাজ ও জাতীয় নিরাপত্তা—দুটিকেই দুর্বল করছে।
- Log in to post comments