এপস্টিন ফাইল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তুঙ্গে। এই আবহে প্রকাশ্যে এসেছে যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের মেডিক্যাল রিপোর্ট ও তাঁর চিকিৎসকদের সঙ্গে আদান–প্রদান হওয়া একাধিক ই-মেল। নথি অনুযায়ী, জীবনের শেষ কয়েক বছরে এপস্টিন গুরুতর শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।
রিপোর্টে উল্লেখ, এপস্টিনের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ছিল অস্বাভাবিকভাবে কম। প্রতি ডেসিলিটারে তাঁর টেস্টোস্টেরনের পরিমাণ ছিল ১২৫ থেকে ১৪২ ন্যানোগ্রাম, যেখানে একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক মাত্রা প্রায় ৩০০ ন্যানোগ্রাম। এই হরমোনের ঘাটতি ও যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলেন।
ই-মেল সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সাল নাগাদ এপস্টিন একাধিক চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যার সমাধান জানতে চান। এক চিকিৎসক তাঁকে ক্লোমিড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। তবে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় ২০১৬ সালেই সেই ওষুধ বন্ধ করে দেন তিনি। পাশাপাশি, ‘ডক্টর ম্যাক্সম্যান’ নামে এক চিকিৎসকের পাঠানো মেলে যৌনাঙ্গবর্ধক ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শের কথাও উঠে এসেছে। এমন ধরনের একাধিক মেলের অস্তিত্ব মিলেছে তদন্তে।
মেডিক্যাল রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, এপস্টিন একাধিক যৌনরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তাঁর মূত্রে রক্তের উপস্থিতি ধরা পড়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণও পাওয়া যায়। নথিতে উল্লেখ, এই সংক্রমণগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর শরীরে প্রভাব ফেলছিল।
শুক্রবার মার্কিন বিচার দফতর এপস্টিন সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লক্ষ পাতা নথি প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২০০০ ভিডিও ও ১ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি ছবি। এর আগেও প্রকাশিত নথিতে এপস্টিনের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বিল ক্লিন্টনের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছবি সামনে আসে, যা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে নাবালিকা ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের অভিযোগে এপস্টিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। ২০১৯ সালের অগস্টে গ্রেফতারির কিছুদিন পরেই নিউইয়র্কের জেলে তাঁর মৃত্যু হয়, যা সরকারি ভাবে আত্মহত্যা বলে জানানো হয়। তবে নতুন করে প্রকাশিত এই নথি ও মেডিক্যাল তথ্য এপস্টিন কাণ্ডে আরও বহু প্রশ্ন তুলে দিল।
- Log in to post comments