কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে নিজের অতীত যোগাযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে অনুতাপ জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তিনি বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো “প্রতিটি মুহূর্তের জন্য” তিনি দুঃখিত। তবে তাঁর সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের মতে, এই সম্পর্ক ঘিরে এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন–সংক্রান্ত প্রায় ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি প্রকাশ করেছে। এসব নথিতে এপস্টেইনের সঙ্গে বহু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন এবং ই–মেইল আদান–প্রদানের তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও খসড়া নথিও রয়েছে।
প্রকাশিত নথির মধ্যে একটি খসড়া ই–মেইলে এপস্টেইন বিল গেটসের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন। সেখানে দাবি করা হয়, গেটস নাকি বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত ছিলেন এবং এপস্টেইন তাঁকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিলেন। তবে গেটস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বিল গেটস বলেন, ওই ই–মেইল কখনো পাঠানোই হয়নি এবং সেটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁর ভাষায়, “আমি জানি না, তিনি কেন এমন কিছু লিখেছিলেন। সম্ভবত আমাকে আক্রমণ বা চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা ছিল।”
এপস্টেইনের মৃত্যুর পরও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট নথি নিয়ে বিতর্ক থামেনি। গেটসের পক্ষ থেকে আগেও বলা হয়েছে, এপস্টেইন প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং গেটসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দাবি করলেও বাস্তবে তা ছিল না।
এই বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলেছেন মেলিন্ডা গেটস। তিনি বলেন, নতুন করে নথি প্রকাশ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু অত্যন্ত বেদনাদায়ক স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। তাঁর মতে, এসব বিষয় সামনে এলে তা তাঁর জন্য মানসিকভাবে কঠিন হয়ে ওঠে।
মেলিন্ডা স্পষ্ট করে জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যেসব প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, সেগুলোর জবাব তাঁর নয়। বরং যাঁরা সেই সম্পর্কের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন, তাঁদেরই এগিয়ে এসে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিল ও মেলিন্ডা গেটসের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।
বিল গেটস জানিয়েছেন, তিনি ২০১১ সালে এপস্টেইনের সঙ্গে প্রথম দেখা করেন এবং পরবর্তী কয়েক বছরে কয়েকবার নৈশভোজে অংশ নেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কখনো এপস্টেইনের ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি এবং কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডেও জড়াননি।
গেটসের দাবি, তাঁদের আলোচনার মূল বিষয় ছিল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে দাতব্য সহায়তা সংগ্রহ। তবে এখন পেছনে ফিরে তাকালে তাঁর মনে হয়, সেই যোগাযোগ থেকে বাস্তবে কোনো ইতিবাচক ফল আসেনি।
এপস্টেইন মারা গেলেও তাঁর তৈরি করা বিতর্ক ও প্রশ্নগুলো এখনো জীবিত—বিশেষ করে ক্ষমতা, নৈতিকতা ও জবাবদিহির প্রশ্নে।
- Log in to post comments