সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক যখন তলানিতে, তখন ইসলামাবাদ অভিযোগ তুলেছে যে পশ্চিমমুখী উপনদী Jhelum River (বিতস্তা/ঝিলম) ও Chenab River (চন্দ্রভাগা/চেনাব)-এর জলে ভারতের বৃহৎ সংরক্ষণ প্রকল্প পাকিস্তানকে “প্রাণঘাতী সঙ্কটে” ফেলতে পারে।
পাকিস্তানের Water and Power Development Authority (ওয়াপদা)-র চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মহম্মদ সঈদের দাবি, প্রায় ৬০০০ কোটি ডলারের প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত জলধারণ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে চলেছে। বর্তমানে সিন্ধু ও তার উপনদীগুলিতে ভারতের জলধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৫ দিন; প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে তা ৫৫-৬০ দিনে পৌঁছতে পারে বলে তাঁর অভিযোগ।
সঈদের বক্তব্য, যদি প্রায় দু’মাস স্বাভাবিক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকে, তবে শুষ্ক মৌসুমে নিম্নপ্রবাহে সেচনির্ভর কৃষি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং খরার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আবার বর্ষাকালে বা অতিবৃষ্টির সময় সংরক্ষিত জল ছেড়ে দিলে নীচের দিকে বন্যার আশঙ্কা বাড়তে পারে বলেও তিনি দাবি করেন। নিম্নপ্রবাহ অঞ্চলে পানীয় ও সেচের জলের ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী Jawaharlal Nehru ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট Ayub Khan-এর মধ্যে Indus Waters Treaty সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী, পূর্বদিকের তিন নদী বিপাশা (বিয়াস), ইরাবতী (রাভি) ও শতদ্রু (সতলুজ়) ভারতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে; আর পশ্চিমমুখী সিন্ধু (ইন্ডাস), চন্দ্রভাগা (চেনাব) ও বিতস্তা (ঝিলম)-এর জল ব্যবহার করবে পাকিস্তান। তবে পশ্চিমের তিন নদী থেকে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ভারতের বাধা নেই।
পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর নয়াদিল্লি চুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। এর পর থেকে ইসলামাবাদ ধারাবাহিক সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এদিকে জম্মু ও কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলায় চেনাবের উপর ৫৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের অনুমোদনের কথাও জানিয়েছে ভারত।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুরনো শর্তাবলি আর আগের মতো কার্যকর থাকবে না। জলসম্পদ ইস্যুতে দুই দেশের টানাপোড়েন তাই নতুন মাত্রা পেয়েছে।
- Log in to post comments