মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের আবহে ইরানে শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের খবর সামনে আসতেই নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আয়াতোল্লা Ali Khamenei-এর মৃত্যুর পরবর্তী পরিস্থিতি কী দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিবর্তন ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যে ভারত এতদিন সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিল। কারণ একদিকে ইরান, অন্যদিকে Israel দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রও ভারতের কৌশলগত অংশীদার। ফলে সরাসরি কোনও পক্ষ নেওয়ার বদলে শান্তি ও সংলাপের পক্ষে বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কিন্তু ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার রদবদল হলে সেই ভারসাম্য বজায় রাখা আরও কঠিন হতে পারে।
ইরানের সিস্তান-বালুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত Chabahar Port ভারতের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যের জন্য এই বন্দর একটি বিকল্প করিডর হিসেবে কাজ করে।
ভারত এই প্রকল্পে বিনিয়োগও করেছে। কিন্তু ইরানে যদি রাজনৈতিক অবস্থান আমূল বদলে যায় এবং নতুন সরকার ভিন্ন কৌশল নেয়, তাহলে চাবাহার প্রকল্পের অগ্রগতি ও ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রভাবিত হতে পারে।
ইরান ভারতের জন্য শুধু জ্বালানি বা কূটনৈতিক সঙ্গী নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট রুট। মধ্য এশিয়ার দেশ যেমন কাজাখস্তান বা তুর্কমেনিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ, এমনকি রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যের একটি অংশও ইরান হয়ে সম্পন্ন হয়।
ইরানের নীতিগত অবস্থান বদলালে এই রুটগুলির উপর প্রভাব পড়তে পারে। ফলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা, খনিজ আমদানি ও আঞ্চলিক প্রভাব সবই নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, ইরানের রাজনৈতিক দুর্বলতা বা অস্থিরতার সুযোগ নিতে পারে পাকিস্তান ও চীন। ইতিমধ্যেই চীন তার বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে অঞ্চলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যদি নতুন কূটনৈতিক অক্ষের দিকে ঝুঁকে পড়ে, তবে ভারতের কৌশলগত অবস্থান চাপে পড়তে পারে।
পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, ভারতকে বহুমুখী যোগাযোগ বজায় রেখে ধাপে ধাপে এগোতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, ইজরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই হবে মূল চাবিকাঠি।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং বিদেশমন্ত্রী Subrahmanyam Jaishankar-এর সামনে তাই এক জটিল কূটনৈতিক সমীকরণ। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
- Log in to post comments