ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের সূত্রে ভারতীয় অধ্যায়, খামেনেই-পরবর্তী সময়ে আলোচনায় উত্তরপ্রদেশের গ্রাম

ইরানের ধর্মতান্ত্রিক শাসনের সূত্রে ভারতীয় অধ্যায়, খামেনেই-পরবর্তী সময়ে আলোচনায় উত্তরপ্রদেশের গ্রাম

ইরানে সাম্প্রতিক অস্থিরতার আবহে আবারও চর্চায় এসেছে দেশটির ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ইতিহাস। বিশেষ করে সুপ্রিম লিডার পদে পরিবর্তনের জল্পনার মধ্যেই সামনে আসছে এমন এক ঐতিহাসিক তথ্য, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি গ্রামের নাম।

১৯৭৯ সালে ইরানে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। তৎকালীন শাহ Mohammad Reza Pahlavi-র শাসনের পতনের পর আয়াতোল্লা Ruhollah Khomeini-র নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র। এই ঘটনাই ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, খোমেইনির পূর্বপুরুষদের শিকড় ছিল ভারতের উত্তরপ্রদেশে। উনিশ শতকের শুরুর দিকে বারাবাঁকি জেলার এক গ্রামে জন্মেছিলেন সৈয়দ আহমেদ মুসাবি নামে এক শিয়া ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব। ধর্মশিক্ষার বিস্তৃত সাধনার উদ্দেশ্যে তিনি পরে ইরাক হয়ে ইরানে পাড়ি দেন। ইরানের খোমেইন শহরে বসবাস শুরু করার পরও তিনি নিজের ভারতীয় পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখেন এবং নামের সঙ্গে ‘হিন্দি’ উপাধি ব্যবহার করতেন বলে ঐতিহাসিকদের একাংশের দাবি।

সেই পারিবারিক ধারাবাহিকতায় জন্ম নেন Ruhollah Khomeini, যিনি পরবর্তীতে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবের মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর নেতৃত্বেই ১৯৭৯ সালের বিপ্লব সংঘটিত হয় এবং প্রতিষ্ঠিত হয় বর্তমান ধর্মভিত্তিক শাসনব্যবস্থা।

পরবর্তী সময়ে এই ব্যবস্থার নেতৃত্বে আসেন আয়াতোল্লা Ali Khamenei। তাঁর নেতৃত্বে ইরানে ধর্মতান্ত্রিক শাসন আরও সুসংহত হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা চলছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার শিকড় যে আংশিকভাবে ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গেও যুক্ত, সেই তথ্য নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। উত্তরপ্রদেশের সেই ছোট্ট গ্রামের নামও তাই ইতিহাস-আলোচনায় উঠে আসছে বারবার।

Category