ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবরে দেশজুড়ে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তেহরান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করার পর কোম, ইয়াসুজ-সহ একাধিক শহরে রাস্তায় নামেন বহু মানুষ। ইরানের পতাকা হাতে শোকমিছিল করতে দেখা যায় তাঁদের। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, অনেকেই মাথা ও বুক চাপড়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
তবে দেশের বাইরে চিত্র একেবারে ভিন্ন। আমেরিকায় বসবাসকারী ইরানিদের একাংশ খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলসে, যেখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইরানি প্রবাসী থাকেন, সেখানে কেউ কেউ আমেরিকা ও ইরানের পতাকা হাতে সমাবেশ করেন। ‘Make Iran Great Again’ স্লোগানও শোনা যায় কিছু জায়গায়।
অন্য দিকে, হোয়াইট হাউসের সামনে এবং নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কোয়ারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও দেখা যায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ যুদ্ধবিরোধী অবস্থান নিয়ে পথে নামেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে ইঙ্গিত, খামেনেইয়ের মৃত্যুতে ইরানের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। একদিকে শোকের আবহ, অন্যদিকে কিছু মানুষের মধ্যে স্বস্তির সুরও শোনা গিয়েছে। গত কয়েক মাসে অর্থনৈতিক নীতি ও প্রশাসনিক কড়াকড়ি নিয়ে দেশে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটেও এই প্রতিক্রিয়াকে দেখছেন অনেকে।
শনিবার ভোর থেকে ইজ়রায়েলি বাহিনী হামলা শুরু করে বলে খবর। পরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে সহায়তা করেছে। প্রথম দফার হামলাতেই খামেনেইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে তেহরানের দাবি। রবিবার সকালে জানানো হয়, নিজের দফতরে থাকাকালীন হামলায় প্রাণ হারান তিনি। পরিবারের আরও কয়েক জন সদস্যও নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ড কঠোর পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির দিকে গভীর নজর রাখছে।
- Log in to post comments