ভোটে জামাতের শক্তি বাড়ল, ভারতকে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত

ভোটে জামাতের শক্তি বাড়ল, ভারতকে সতর্ক থাকার ইঙ্গিত

গত জাতীয় নির্বাচনে জামাতের অর্জন তাৎপর্যপূর্ণ হলেও তারা সরকারে আসতে পারেনি। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে দলটি অভূতপূর্ব শক্তি অর্জন করেছে এবং দেশটির রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ক্ষমতা না পেলেও জামাত নতুন নজির স্থাপন করেছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামাতের প্রাপ্ত ফল ভালো। এছাড়া মধ্যবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গ লাগোয়া জেলার পাশাপাশি রংপুর ডিভিশনেও তারা ভালো ফল দেখিয়েছে। গত বছর শেখ হাসিনার পদত্যাগের পরে জামাতের নেতৃত্ব আবার সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে ফিরে এসেছে।

এই নির্বাচনে জামাত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের জোটে ছিল কিছু ইসলামপন্থী দল, যেমন জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP), খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি। ভোটের পর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই জোট অনেক কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনে জামাত বিএনপির প্রতীকে অংশ নিয়েছিল। তখন দেশের নির্বাচন কমিশন জামাতকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি বাতিল করেছিল। এরপর দলটি কিছু সময়ের জন্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে পিছিয়ে ছিল। এবার ভোটে তারা আবার প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

জামাতের নেতৃত্বের পরিকল্পনা ও কৌশল ভোটে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও অংশীদারি তাদের ফলাফলকে শক্তিশালী করেছে। ভোটের আগে জামাত নেতারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন এবং রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের চেষ্টা করেছেন।

এবারের জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে জামাত ২২৩টিতে প্রার্থী দিয়েছে। যদিও তাদের মধ্যে কোনো নারী প্রার্থী নেই, ভোটার তালিকায় নারীর সংখ্যা ৫০ শতাংশের বেশি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামাতের এই উত্থান ভারতের জন্য সর্তকতার কারণ হতে পারে।

Category