আজকাল খুব কম বয়স থেকেই চোখে পাওয়ার দেখা দিচ্ছে। স্কুলজীবন থেকেই চশমা সঙ্গী হচ্ছে অনেকের, আর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের পাওয়ারও ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর ফলে মাথাব্যথা, চোখ জ্বালা, ঝাপসা দেখা এমন নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের পাওয়ার পুরোপুরি কমানো সবসময় সম্ভব না হলেও, সঠিক জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে পাওয়ার বাড়ার গতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিদিনের ডায়েটে পুষ্টিকর খাবার রাখা। জেনে নিন এমন ৫টি খাবারের কথা, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী।
১) পালং শাক

সবুজ শাকসবজির মধ্যে পালং শাক চোখের জন্য অন্যতম সেরা। এতে রয়েছে লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিন, যা চোখের রেটিনাকে সুরক্ষা দেয় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পালং শাক খেলে চোখের ক্লান্তি কমে।
২) লেবু

ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর লেবু চোখের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচায়। যেকোনো ধরনের লেবু পাতিলেবু বা কমলালেবু নিয়মিত খেলে চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
৩) স্যামন বা টুনা মাছ

এই ধরনের চর্বিযুক্ত মাছে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চোখের ম্যাকুলার অংশ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এতে চোখের শুষ্কতা কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে।
৪) বাদাম

আমন্ড, আখরোট বা কাজুবাদাম সব ধরনের বাদামেই রয়েছে ভিটামিন ই ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলি চোখের কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
৫) ডিম

ডিমে থাকে জিঙ্ক ও ভিটামিন এ, যা চোখের জন্য অত্যন্ত জরুরি পুষ্টি। নিয়মিত ডিম খেলে দৃষ্টিশক্তি বজায় থাকে এবং চোখের নানা সমস্যা দূরে থাকে।
শুধু খাবার নয়, অভ্যাসও জরুরি
চোখ ভালো রাখতে হলে একটানা মোবাইল বা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা থেকে বিরত থাকতে হবে। দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে চোখের পাওয়ার বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ রুল মেনে চলার পরামর্শ দেন।
* প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন দেখার পর
* ২০ ফুট দূরের কোনও কিছুর দিকে
* অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকান
এই সহজ অভ্যাস চোখের ক্লান্তি কমায় এবং দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে।
- Log in to post comments