ব্রিগেড ঘুরে দেখলেন হুমায়ুন কবীর, দাবি-‘লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হবে’

ব্রিগেড ঘুরে দেখলেন হুমায়ুন কবীর, দাবি-‘লক্ষাধিক মানুষের সমাবেশ হবে’

আগামী দিনে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বড়সড় রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দিলেন জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর। সোমবার ব্রিগেডে গিয়ে প্রস্তুতির খোঁজখবর নেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, আগামী মাসের শুরুতেই সেখানে একটি ‘মেগা’ রাজনৈতিক সমাবেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও নির্দিষ্ট দিন এখনও চূড়ান্ত হয়নি। প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ব্রিগেডে তাঁর উপস্থিতিকে ঘিরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে। এমনকি হুমায়ুন কবীরকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত বলেও স্লোগান দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা তাঁর গাড়ি ঘিরে ধরলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায় হুমায়ুন কবীর বলেন, শাসক দলের অস্বস্তিই এই বিক্ষোভের কারণ। তাঁর বক্তব্য, “এই ভয় দেখাচ্ছে যে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস সংক্রান্ত ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে হুমায়ুন কবীরের দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তাঁকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। এর পরই তিনি নতুন রাজনৈতিক দল ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠনের ঘোষণা করেন।

নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট করে হুমায়ুন জানান, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোই তাঁর মূল উদ্দেশ্য। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকার দুর্নীতিতে জর্জরিত। তিনি বলেন, রাজ্যে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গড়ে তুলতেই তাঁর এই রাজনৈতিক লড়াই, আর সেই লক্ষ্যে তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন চাইছেন।

ব্রিগেডের রাজনৈতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন হুমায়ুন কবীর। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা গনি খান চৌধুরীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এক সময় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে কংগ্রেসের সমাবেশ মানেই ছিল বিপুল জনসমাগম এবং তার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতো। সেই ঐতিহাসিক স্মৃতি থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে চান তিনি।

সমাবেশের সম্ভাব্য আকার নিয়েও বড় দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর লক্ষ্য, ব্রিগেডে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত। তাঁর মতে, এই কর্মসূচি শুধু একটি রাজনৈতিক সভা নয়, বরং বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় আনতে পারে।

সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের ব্রিগেড-কেন্দ্রিক এই উদ্যোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি করেছে। এখন দেখার, তাঁর এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সফল হয়।

Category